আলোময়.কম,ভিডিও সঙ্গীত, যোগাযোগ করুন,সঙ্গীত পাঠান fb page

সর্বশেষ মন্তব্য

বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০১৪

পবিত্র কুর'আনের ৩০ টি দুয়া

[উল্লেখ্যঃ ২>১২৭ এর মানে হলো ২য় নম্বর সূরার ১২৭ নং আয়াত। ]
পোস্ট বড় হয়ে যাবার ভয়ে বাংলা অর্থ দিলাম না। দুয়াগুলো বাংলা অর্থসহ জানা জরুরী। জেনে নেবার জন্য tanzil.net ব্রাউজ করে আসুন।
১. সূরা বাক্বারা (২>১২৭)
رَ‌بَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
২. সূরা বাক্বারা (২>১২৮)
رَ‌بَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّ‌يَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِ‌نَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّ‌حِيمُ
৩. সূরা বাক্বারা (২>২০১)
رَ‌بَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَ‌ةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ‌
৪.  সূরা বাক্বারা (২>২৮৬)
رَ‌بَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَ‌بَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرً‌ا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَ‌بَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ‌ لَنَا وَارْ‌حَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْ‌نَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِ‌ينَ 
৫. সূরা আলে ইমরান (৩>৮)
رَ‌بَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَ‌حْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
৬. সূরা আলে ইমরান (৩>১৬)
رَ‌بَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ‌ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ‌
৭. সুরা আলে ইমরান (৩>৫৩)
رَ‌بَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّ‌سُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
৮. সূরা আলে ইমরান (৩>১৪৭)
رَ‌بَّنَا اغْفِرْ‌ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَ‌افَنَا فِي أَمْرِ‌نَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْ‌نَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِ‌ينَ
৯. সুরা আলে ইমরান (৩>১৯১)
رَ‌بَّنَا مَا خَلَقْتَ هَـٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ‌
১০. সূরা আলে ইমরান (৩>১৯২)
رَ‌بَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ‌ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ‌
১১. সূরা আলে ইমরান (৩>১৯৩)
رَّ‌بَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَ‌بِّكُمْ فَآمَنَّا ۚ رَ‌بَّنَا فَاغْفِرْ‌ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ‌ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَ‌ارِ‌
১২. সূরা আলে ইমরান (৩>১৯৪)
رَ‌بَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُ‌سُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ 
১৩. সূরা মায়িদা (৫>৮৩)
رَ‌بَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
১৪. সূরা আ'রাফ (৭>২৩)
رَ‌بَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ‌ لَنَا وَتَرْ‌حَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِ‌ينَ
১৫. সূরা আ'রাফ (৭>৪৭)
رَ‌بَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
১৬. সূরা আ'রাফ (৭>৮৯)
رَ‌بَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنتَ خَيْرُ‌ الْفَاتِحِينَ
১৭. সূরা আরাফ (৭>১২৬)
رَ‌بَّنَا أَفْرِ‌غْ عَلَيْنَا صَبْرً‌ا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
১৮. সূরা ইউনুস (১০>৮৫-৮৬)
رَ‌بَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿٨٥ وَنَجِّنَا بِرَ‌حْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِ‌ينَ
১৯. সূয়া ইব্রাহীম (১৪>৪০)
رَ‌بِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّ‌يَّتِي ۚ رَ‌بَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
২০. সূরা ইব্রাহীম (১৪>৪১)
رَ‌بَّنَا اغْفِرْ‌ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
২১. সূরা কাহফ (১৮>১০)
رَ‌بَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَ‌حْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِ‌نَا رَ‌شَدًا
২২. সূরা মুমিনূন (২৩>১০৯)
رَ‌بَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ‌ لَنَا وَارْ‌حَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ‌ الرَّ‌احِمِينَ     
২৩. সূরা ফুরকান (২৫>৬৫)
رَ‌بَّنَا اصْرِ‌فْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ ۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَ‌امًا
২৪. সূরা ফুরকান (২৫>৭৪)
رَ‌بَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّ‌يَّاتِنَا قُرَّ‌ةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
২৫. সূরা মুমিন /গাফির (৪০>৭)
رَ‌بَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّ‌حْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ‌ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ 
২৬. সূরা গাফির (৪০>৮-৯)
رَ‌بَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّ‌يَّاتِهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٨﴾ وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ ۚ وَمَن تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَ‌حِمْتَهُ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ        
২৭. সূরা হাশর (৫৯>১০)
رَ‌بَّنَا اغْفِرْ‌ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَ‌بَّنَا إِنَّكَ رَ‌ءُوفٌ رَّ‌حِيمٌ
২৮. সূরা মুমতাহিনা (৬০>৪)
رَّ‌بَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ‌ 
২৯. সূরা মুমতাহিনা (৬০>৫)
رَ‌بَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُ‌وا وَاغْفِرْ‌ لَنَا رَ‌بَّنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ 
৩০. সূরা তাহরিম (৬৬>৮)
رَ‌بَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَ‌نَا وَاغْفِرْ‌ لَنَا ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ‌     

বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০১৪

সূরা আনকাবুতের আয়াতভিত্তিক বিষয়বস্তূ ও সারসংক্ষেপ

সুরা আনকাবুতঃ
সূরা ক্রমঃ ২৯, মোট আয়াতঃ ৬৯। নাযিলঃ মাক্কী যুগ
২-আয়াতঃ ঈমানের মৌখিক দাবী যথেষ্ট নয়, পরীক্ষা দিতে হবে।
৬-আয়াতঃ কেউ চেষ্টা সাধনা করলে নিজের জন্যেই ভালো।
৭-আয়াতঃ আমলে সালেহ প্রয়োজন
৮-আয়াতঃ পিতা মাতার সাথে সদাচারের নির্দেশ।
৮-আয়াতঃ পিতামাতা শিরক করতে বললে আনুগত্য করা যাবে না।
৮-আয়াতঃ আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে।
৯-আয়াতঃ আমলে সালেহ
১৮-আয়াতঃ আগেও রাসুলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
১৮-আয়াতঃ রাসুলদের দায়িত্ব শুধু দাওয়াত পৌঁছিয়ে দেওয়া।
১৯-আয়াতঃ আল্লাহ সৃষ্টির কাজ শুরু করেন ও পুনরায় তাকে অস্তিত্বে আনেন।
২০-আয়াতঃ পৃথিবীতে ভ্রমণ কর।
২২-আয়াতঃ তোমরা পৃথিবী ও আকাশে আল্লাহকে অক্ষম করে দিতে পারবে না।
২৪-আয়াতঃ ইসলামের প্রতিনিধিদের উপর হত্যা নির্যাতনের উদাহরণ।
৪১-আয়াতঃ আল্লাহ ছাড়া অন্য অভিভাবকের আশ্রয় মাকড়সার জালের মত ঠুনকো।
৪১-আয়াতঃ মকড়সার ঘর দুর্বলতম।
৪৪-আয়াতঃ আল্লাহ আকাশ ও যমীন সত্যসহ সৃষ্টি করেছেন।
৪৪-আয়াতঃ এতে নিদির্শন রয়েছে।
৪৫-আয়াতঃ সালাত/নামাজ সকল মন্দ ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
৫৩-আয়াতঃ পৃথিবীতে নির্দিষ্ট সময় নাগাদ অবকাশ।
৫৪-আয়াতঃ পরকালের শাস্তি। উপর ও নিচ দুদিক থেকেই।
৫৬-আয়াতঃ আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। তাই ইবাদাত ছাড়া যাবে না।
৫৭-আয়াতঃ সকলকে মৃত্যুর সাধ গ্রহণ করতে হবে।
৫৭-আয়াতঃ সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে।
৫৮-আয়াতঃ ঈমানের সাথে আমলে সালেহ প্রয়োজন
৫৯-আয়াতঃ সবর ও তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব।
৬২-আয়াতঃ আল্লাহই রিযক বাড়ান, কমান।
৬৪-আয়াতঃ দুনিয়ার জীবন খেল তামাশা মাত্র।
৬৯-আয়াতঃ যারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম/চেষ্টা সাধনা করে, আল্লাহই তাদেরকে তাঁর পথে পরিচালিত করেন। 

রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৪

সূরা লুকমানের আয়াতভিত্তিক বিষয়বস্তূ ও সারসংক্ষেপ

সূরা লুকমানের আয়াতভিত্তিক বিষয়বস্তূ ও সারসংক্ষেপ

একটি লক্ষ্য হাতে নিয়েছি। তা হল, কুর'আনের সূরা ভিত্তিক আয়াতগুলোর একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করা।

সেই উদ্দেশ্যে এবারে সূরা লুকমান দিয়ে শুরু হল।

বিঃদ্রঃ এখানে সবগুলো আয়াত উল্লেখ করা হয়নি। যেসব আয়াত কুর'আনে বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার ব্যবহৃত হয়েছে এবং যেগুলোকে বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে বেশি প্রাসংগিক মনে হয়েছে এখানে শুধু সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

নচেত, কুর'আনের আয়াতসমূহ থেকে বেছে বেছে 'গুরুত্বপূর্ণ' আয়াত বের করা আমার লক্ষ্য নয়। এটার দুঃসাহসের কল্পনাও আমি করতে পারি না। কারণ কুর'আনের সব আয়াতই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহই ভালো জানেন কোন আয়াত কখন আমাদের বেশি কাজে লাগবে।

তবে আমার এ কাজের লক্ষ্য হল কুর'আনকে সহজভাবে বোঝা, প্রয়োজনীয় আয়াতটি সহজে খুজে পাওয়া ও কুর'আন গবেষকদের একটু খেদমত করা। আমার এ উদ্দেশ্যগুলো যাতে পূরণ হয় এবং সেই মাফিক যাতে পোস্ট করতে পারি, আল্লাহর কাছে এই দোয়া।

নিচে আয়াতের ক্রম অনুযায়ী সূরা লুকমানের সারসংক্ষেপ ও বেশি ব্যবহৃত আয়াতগুলো আয়াত নম্বর সহ দেওয়া হল।

সূরা লুকমানঃ

সূরা নম্বরঃ ৩১; মোট আয়াতঃ ৩৪

৮-আয়াতঃ ঈমানের সাথে আমলে সালেহ (নেক আমল) প্রয়োজন

১৪-আয়াতঃ পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে।

১৪-আয়াতঃ আল্লাহর দিকে সবাইকে ফিরে যেতে হবে।

১৫-আয়াতঃ আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করলে পিতামাতার আনুগত্য করা যাবে না।

১৫-আয়াতঃ সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে, তখন কর্মকাণ্ড বলে দেওয়া হবে। (ফাঁস হয়ে যাবে)

১৮-আয়াতঃ (ছেলের প্রতি হযরত লুকমানের উপদেশ) অহংকার নিয়ে যমিনে চলাফেরা করো না।

১৯-আয়াতঃ গাধার আওয়াজ সবচেয়ে কর্কশ

২৭-আয়াতঃ পৃথিবীর সব গাছ কলম এবং সমুদ্রের সব পানি কালি হলেও আল্লাহর প্রশংসা লেখা শেষ হবে না, আরো সাতটি সমুদ্র আনলেও [আরোঃ সুরা কাহফ]

২৯-আয়াতঃ তিনি রাতকে দিনের মধ্যে ও দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। [বিভাগঃ বিজ্ঞান]

২৯-আয়াতঃ চন্দ্র ও সূর্য্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করবে। {বিভাগঃ বিজ্ঞান]

৩৩-আয়াতঃ হাশরের দিন পিতা সন্তানের বা সন্তান পিতার বিনিময় দিতে পারবে না {বিভাগঃ পরকালের পরিস্থিতি]

৩৩-আয়াতঃ দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদের প্রতারিত না করে।

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

দারসুল কুরআন- (সূরা মুহাম্মাদ , ৪৭:১-৩)

দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি লাভের জন্য আল্লাহর পথে সক্রিয় থাকা জরুরি
الَّذِينَ كَفَرُ‌وا وَصَدُّوا عَن سَبِيلِ اللَّـهِ أَضَلَّ أَعْمَالَهُمْ ﴿١ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَآمَنُوا بِمَا نُزِّلَ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَهُوَ الْحَقُّ مِن رَّ‌بِّهِمْ ۙ كَفَّرَ‌ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَأَصْلَحَ بَالَهُمْ ﴿٢ ذَٰلِكَ بِأَنَّ الَّذِينَ كَفَرُ‌وا اتَّبَعُوا الْبَاطِلَ وَأَنَّ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّبَعُوا الْحَقَّ مِن رَّ‌بِّهِمْ ۚ كَذَٰلِكَ يَضْرِ‌بُ اللَّـهُ لِلنَّاسِ أَمْثَالَهُمْ
সরল অনুবাদ
“যারা কুফরি করেছে এবং আল্লাহর পথে চলতে বাঁধা দিয়েছে, আল্লাহ তাদের সমস্ত কাজকর্ম ব্যর্থ করে দিয়েছেন।
আর যারা ঈমান এনেছে, নেক কাজ করেছে এবং মুহাম্মদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তা মেনে নিয়েছে- বস্তুত তা তো তাদের রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত অকাট্য সত্যকথা- আল্লাহ তাদের খারাপ কাজগুলো তাদের থেকে দূর করে দিয়েছেন এবং তাদের অবস্থা শুধরে দিয়েছেন। কারণ হলো, যারা কুফরি করেছে তারা বাতিলের আনুগত্য করেছে এবং ঈমান গ্রহণকারীগণ তাদের রবের পক্ষ থেকে আসা সত্যের অনুসরণ করেছে। আল্লাহ এভাবে মানুষের সামনে তাদের উদাহরণসমূহ
উপস্থাপন করেন (সঠিক মর্যাদা ও অবস্থান বলে দেন)।”
(সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ১-৩)
নামকরণ:
সূরা মুহাম্মদের মোট আয়াত সংখ্যা ৩৮। দ্বিতীয় আয়াতে উল্লেখিত ‘মুহাম্মদ’ শব্দ হতে এর নাম গৃহীত হয়েছে। এই সূরাটির অপর একটি নাম ‘কিতাল’। ২০ নম্বর আয়াতে উল্লেখিত শব্দ হতে এই নামটি নেয়া হয়। তাছাড়া সূরাটিতে মোটামুটিভাবে ‘কিতাল’ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা এসেছে।
নাজিলের সময়কাল
মাদানী যুগের প্রাথমিক সময়ে যখন মুসলিমদের যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে কিন্তু তখনও যুদ্ধ শুরু হয়নি সেই সময় এই সূরাটি নাজিল হয়।
পটভূমি
হিজরতের কিছুকাল অতিবাহিত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা হতে নির্যাতিত মুহাজিরগণ মদীনায় এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা অর্থনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট দুর্বল। আবার মুহাজিরদের আগমনে মদীনার অর্থনৈতিক অবস্থাও কিছুটা চাপে পড়েছে। অন্যদিকে মদীনার চারিদিকে অবস্থিত কাফির-মুশরিক জাতিগুলো এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব মিশিয়ে দেয়ার পণে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে লিপ্ত। সবসময় একটা আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছে মুসলিমগণ। ঠিক সেই সময় যুদ্ধ সংক্রান্ত আয়াতগুলো নাজিল হয়। প্রথমে সূরা হজের ৩৯ নম্বর আয়াত যেখানে মুসলিমদেরকে যুদ্ধের অনুমতি প্রদান করা হয় : “অনুমতি দেয়া হলো তাদেরকে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, কেননা তারা মজলুম। এবং আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখেন।”
এবং এর পর পরই সূরা বাকারার ১৯০ নম্বর আয়াতে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয় : “আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো, যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, কিন্তু বাড়াবাড়ি করো না। কারণ যারা বাড়াবাড়ি করে আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না।”
এই পরিস্থিতিতে মুসলিমগণকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা এবং যুদ্ধের কথায় দুর্বলচিত্ত মুসলিম ও মুনাফিকদের বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তার জবাবসহ এই সূরাটি নাজিল হয়।
বিষয়বস্তু
সূরাটিতে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ আলোচিত হয়েছে
১.    দু’টি বিপরীতমুখী দলের পরিচিতি ও পরিণতি।
২.    মুসলমানদেরকে প্রাথমিক সামরিক নির্দেশনা, কুরবানি ও ত্যাগের নজরানা পেশের নির্দেশ।
৩.    কাফেরদের আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত ও ব্যর্থ হওয়ার ঘোষণা।
৪.    মুনাফিকদের ভীতি ও দ্বিমুখীতার স্বরূপ উন্মোচন।
৫.    নিজেদের স্বল্প সংখ্যা ও উপকরণ দেখে সাহস না হারানো এবং সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে দুর্বলতা প্রকাশ না করার নির্দেশ। শুধুমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা রেকে বাতিলকে চূর্ণ করার নির্দেশ।
৬.    সবশেষে এহেন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় ও কৃপণতা পরিহারের নির্দেশ। সেই সাথে আদেশসমূহ পালন না করলে শাস্তি ও অন্য জাতি দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হওয়ার হুঁশিয়ারী।
সংশ্লিষ্ট হাদিস
সহীহ বুখারীর কিতাবুত তাফসীরে রক্তসম্পর্ক সম্পর্কিত একটি হাদিসে সূরা মুহাম্মদের উদ্ধৃতি এসেছে : আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আল্লাহতাআলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেন। এ থেকে তিনি ফারেগ হলে, রাহিন (রক্তসম্পর্ক) দাঁড়িয়ে পরম করুণাময়ের আঁচল টেনে ধরলো। তিনি তাকে বললেন, থামো! সে বলল আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ব্যক্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনার জন্যই আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহ বললেন, যে তোমাকে সম্পৃক্ত রাখে আমিও তাকে সম্পৃক্ত রাখবো; আর যে তোমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমিও তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবো- এতে কি তুমি সন্তুষ্ট নও? সে বলল, নিশ্চয়ই হে আমার প্রভু। তিনি বললেন, যাও, তোমার জন্য তাই করা হলো।”
আবু হুরায়রা (রা) বলেন, ইচ্ছা হলে তোমরা পড় “ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।”
মু’আবিয়া ইবনে আবুল মুযাররাদ (রা) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
আয়াত নম্বর ১ : এখানে বলা হয়েছে, “যারা কুফরি করেছে এবং আল্লাহর পথে চলতে বাঁধা দিয়েছে, আল্লাহ তাদের সমস্ত কাজকর্ম ব্যর্থ করে দিয়েছেন।”
কুফরি করা অর্থ হলো, রাসূলের (সা)-এর শিক্ষা ও পথনির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানানো। এটি বিভিন্ন পর্যায়ের হতে পারে। যেমন :
  •     ঈমানের বিষয়সমূহ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা
  •     রাসূলের (সা) শিক্ষা ও পথনির্দেশের কিছুটা অংশ মানতে অস্বীকার করা
  •     কুফরি মতবাদ সমর্থন/পালন করা প্রভৃতি।
অন্যদিকে আল্লাহর পথে চলতে বাঁধা দেয়াটাও বিভিন্ন পর্যায়ের। প্রথমত, সরাসরি বা প্রত্যক্ষ বাঁধা। দ্বিতীয়ত, পরোক্ষভাবে বাঁধা দেয়া।
অন্যদেরকে বাঁধা দেয়াটা নিম্নরূপ হতে পারে :
  •    জোরপূর্বক বাঁধা দেয়া
  •     নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়ে বাঁধা দেয়া
  •    যারা দ্বীনের অনুসারী তাঁদের মধ্যে দ্বীনের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি
  •     প্রতিটি কাফির ব্যক্তি তার পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য আল্লাহর পথে চলতে বাঁধা
  •     প্রতিটি কুফরি মতবাদ লালনকারী সমাজ সেই সমাজের সদস্যদের জন্য দ্বীনের পথে চলতে বাঁধা
সমস্ত কাজকর্ম বা কর্মফল ব্যর্থ হওয়ার অর্থ হতে পারে :
  •    বিপথগামী হওয়া/পথভ্রষ্ট হওয়া/ধ্বংস হওয়া/পণ্ড করা
  •    তাদের চেষ্টা ও শ্রম সঠিক হওয়ার তৌফিক ছিনিয়ে নেয়া
  •    ধারণার বশবর্তী হয়ে যে নেক কাজগুলো করে তার প্রতিদান বিনষ্ট হওয়া
  •     ন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের কৌশল বা ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়া।
আয়াত নম্বর ২ : বলা হচ্ছে, “আর যারা ঈমান এনেছে, নেক আমল করেছে এবং মুহাম্মদের প্রতি যা নাজিল হয়েছে তা মেনে নিয়েছে- বস্তুত তা তো তাদের রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত অকাট্য সত্য কথা- আল্লাহ তাদের খারাপ কাজগুলো তাদের থেকে দূর করে দিয়েছেন এবং তাদের অবস্থা শুধরে দিয়েছেন।”
এই আয়াত অনুযায়ী ঈমানের বিষয়বস্তু :
সূরা বাকারার ১৭৭ নম্বর আয়াতে এভাবে বর্ণিত হয়েছে, “তোমাদের মুখ পূর্ব দিকে বা পশ্চিম দিকে ফিরাবার মধ্যে কোনো পুণ্য নেই। বরং সৎকাজ হচ্ছে এই যে, মানুষ আল্লাহ, কিয়ামতের দিন, ফেরেশতা, আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব ও নবীদেরকে মনেপ্রাণে মেনে নেবে এবং আল্লাহর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের প্রাণপ্রিয় ধন-সম্পদ, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ও ক্রীতদাসদের মুক্ত করার জন্য ব্যয় করবে। আর নামাজ কায়েম করবে এবং যাকাত প্রদান করবে। যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করবে এবং বিপদে-অনটনে ও হক-বাতিলের সংগ্রামে সবর করবে তারাই সৎ ও সত্যাশ্রয়ী এবং তারাই মুত্তাকী।”
এখানে পূর্ব ও পশ্চিমের দিকে মুখ করার বিষয়টিকে নিছক উপমা হিসেবে আনা হয়েছে। আসলে এখানে যে কথাটি বোঝানো হয়েছে সেটি হচ্ছে, ধর্মের কতিপয় বাহ্যিক অনুষ্ঠান পালন করা, শুধুমাত্র নিয়ম পালনের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত কয়েকটা ধর্মীয় কাজ করা এবং তাকওয়ার কয়েকটা পরিচিত রূপের প্রদর্শনী করা আসল সৎকাজ নয় এবং আল্লাহর কাছে এর কোনো গুরুত্ব ও মূল্য নেই।
সূরা মু’মিনুনের ১-১০ নম্বর আয়াত কয়টি ঈমানের প্রকৃষ্ঠতম দৃষ্টান্ত। সহীহ বুখারী শরীফের কিতাবুল ঈমান অধ্যায়ের হাদিসসমূহও এক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে।
রিসালাতের ক্ষেত্রে মুহাম্মদ (সা)-এর রিসালাত অবশ্যই মানতে হবে। এমনকি যদি আল্লাহ, আখিরাত ও পূর্ববর্তী রাসূল এবং তাদের অবতীর্ণ কিতাব মানা সত্ত্বেও মুহাম্মদ (সা)-এর রিসালাত ও আল কুরআনকে না মানা হলে ঈমান হবে না।
খারাপ কাজসমূহ দূর করার অর্থ :
  •    পূর্বে কৃত সকল অপরাধ মওকুফ হওয়া
  •    জাহেলিয়াতের পরিবেশ ও দুষ্কৃতি হতে নিস্তার পাওয়া
  •     জাহেলী রসম-রেওয়াজ হতে মুক্ত হওয়া।
শুধরে দেয়া অর্থ হতে পারে :
  •     জাহেলী সমাজের বিশৃঙ্খলা হতে মুক্তি লাভ করে ইসলামী সুবিন্যস্ত ও সুসজ্জিত জীবন লাভ
  •     এতদিন নির্যাতিত হওয়ার পর এখন বাতিলের উপর বিজয়ী হয়ে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো।
আয়াত নম্বর ৩ : আয়াতের অর্থ হচ্ছে, “কারণ হলো, যারা কুফরি করেছে তারা বাতিলের আনুগত্য করেছে এবং ঈমান গ্রহণকরীগণ তাদের রবের পক্ষ থেকে আসা সত্যের অনুসরণ করেছে। আল্লাহ এভাবে মানুষের সঠিক মর্যাদা ও অবস্থান বলে দেন।”
এখানে বাতিলের আনুগত্য নিম্নোক্ত কারণে হতে পারে :
  •     আংশিক বা পূর্ণ আনুগত্য
  •    ঈমানের পথে সক্রিয় না থাকা (সে ব্যক্তি মুনাফিকের ন্যায় মরলো যে না জিহাদ করেছে আর না তার মনে জিহাদের কোনো আকাক্সক্ষা জাগ্রত হয়েছে)
  •     বাতিল ব্যবস্থার অধীনে সন্তুষ্ট চিত্তে থাকাও বাতিলের আনুগত্য।
শিক্ষণীয় বিষয়
১.    কুফরি বা বাতিলের আনুগত্য থাকলে সকল নেক আমলের পুরস্কার ধ্বংস হয়ে যাবে।
২.    যারা কুফরি করে বা আল্লাহর পথে বাঁধা দেয়, তাদের আমল বিনষ্ট হয়ে যাওয়া বা তাদের সকল কর্মপ্রচেষ্টা বিফল হওয়ার ঘোষণা আসায় এখন বাতিলপন্থীদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণই থাকতে পারে না।
৩.    ঈমানদারদের সাফল্যের কারণ এবং আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের দেয়া নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা, কৃতজ্ঞ হওয়া ও আল্লাহর আদেশ পালনে অলসতা না করা।
৪.    ঈমানদারদের জন্য আল্লাহর পথে সক্রিয় থাকাটা দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি লাভের জন্য জরুরি।
আল্লাহ আমাদের সকলকে তার হেদায়েতের উপর কায়েম রাখুন। আমিন।

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

কুরআনের শাব্দিক অনুবাদ; সুরা ইনফিতার (১-১০)

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّ‌حْمَـٰنِ الرَّ‌حِيمِ
إِذَا السَّمَاءُ انفَطَرَ‌تْ ﴿١﴾ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انتَثَرَ‌تْ ﴿٢﴾ وَإِذَا الْبِحَارُ‌ فُجِّرَ‌تْ ﴿٣﴾ وَإِذَا الْقُبُورُ‌ بُعْثِرَ‌تْ ﴿٤﴾ عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَ‌تْ ﴿٥﴾ يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّ‌كَ بِرَ‌بِّكَ الْكَرِ‌يمِ ﴿٦﴾ الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ ﴿٧﴾ فِي أَيِّ صُورَ‌ةٍ مَّا شَاءَ رَ‌كَّبَكَ ﴿٨﴾ كَلَّا بَلْ تُكَذِّبُونَ بِالدِّينِ ﴿٩﴾ وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ
إِذَا -যখন (হবে)
السَّمَاءُ -আকাশ
انفَطَرَ‌تْ -বিদীর্ণ হল (إِذَا থাকার কারণে ভবিষ্যৎ এর অর্থ বোঝাবে)
وَ -এবং
الْكَوَاكِبُ -তারকাসমূহ
انتَثَرَ‌تْ -বিক্ষিপ্ত হল (হবে)
الْبِحَارُ‌ -সাগর
فُجِّرَ‌تْ -উত্তাল করে তোলা হবে
الْقُبُورُ‌ -কবরসমূহ
بُعْثِرَ‌تْ -খুলে দেওয়া হবে
عَلِمَتْ -জানতে পারবে
نَفْسٌ -আত্মা, মানুষ, প্রত্যেকে
مَّا -যা
قَدَّمَتْ -সে আগে পাঠিয়েছে
أَخَّرَ‌تْ -সে পেছনে (যা) ছেড়ে এসেছে
يَا أَيُّهَا -হে
الْإِنسَانُ -মানুষেরা
مَا -কি, কোন জিনিস
غَرَّ‌ -ধোঁকায় ফেলেছে
كَ -তোমাকে
بِ -ব্যাপারে
رَ‌بِّكَ তোমার প্রতিপালক
الْكَرِ‌يمِ -(যিনি) মহা সম্মানিত
الَّذِي -যিনি
خَلَقَ -সৃষ্টি করেছেন
فَ -অত:পর
فَسَوَّا -গঠন করেছেন, কাঠামো দান করেছেন
عَدَلَ- সুষম করেছেন, উপযোগী/সুসামন্জস্যপূর্ণ করেছেন
فِي -তে, মধ্যে, এ
أَيِّ -যে রকম
صُورَ‌ةٍ -আকৃতি
شَاءَ -তিনি চেয়েছিলেন
رَ‌كَّبَ -গড়ন দিয়েছেন
كَلَّا -কখনো নয়
بَلْ -বরং
تُكَذِّبُونَ -তোমরা মিথ্যা সাব্যস্ত কর
الدِّينِ -প্রতিফল (দেবার দিন, ঘটনা)
إِنَّ- নিশ্চয়ই
عَلَيْ -উপরে (রয়েছে)
كُمْ -তোমাদের
لَ -অবশ্যই
حَافِظِينَ -সংরক্ষক, তত্বাবধায়ক

সরল অনুবাদঃ

১. যখন আসমান বিদীর্ণ হবে
২. যখন তারকাসমূহ বিক্ষিপ্ত হবে
৩. যখন সাগরকে উত্তাল করে তোলা হবে
৪. যখন কবরগুলোকে খুলে দেওয়া হবে
৫. প্রতিটি মানুষই জানতে পারেব সে (এখানকার জন্যে) কি পাঠিয়েছে এবং কি কাজ সে রেখে এসেছিল (যেমন, সাদকায়ে জারিয়ার মত)
৬. হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহাসম্মানিত প্রতিপালক সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে?
৭. যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অত:পর সুঠাম করেছেন এবং সুষম আকৃতি দিয়েছেন
৮. তিনি যেভাবে চেয়েছেন সে আকৃতিতেই তোমাকে গঠন করেছেন
৯. না, বরং তোমরা প্রতিফল (দিবসটিকেই) অস্বীকার করছ
১০. (অথচ) তোমাদের উপর (নিযুক্ত রয়েছে) পাহারাদার।

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

কুরআনের শাব্দিক অনুবাদ (সূরা বাকারা, ১৫৩-১৫৭)

يَا أَيُّهَا- হে (O You)
الَّذِينَ -যারা (Who)
آمَنُوا -ঈমান আনয়ন করেছে, বিশ্বাস স্হাপন করেছে (have believed)
اسْتَعِينُوا- সাহায্য চাও (Seek help)
بِ- দ্বারা (with)
الصَّبْرِ‌- ধৈর্য্য,সহিষ্ণুতা (Steadfastness, endurance)
وَ- এবং (And)
الصَّلَاةِ- নামাজ, সালাহ (Salah, Prayer, Worship)
إِنَّ - নিশ্চয়ই (Certainly, Surely)
اللَّـهَ -আল্লাহ (Allah)
مَعَ - সাথে (is with)
الصَّابِرِ‌ينَ -ধের্য্যশীলগণ (Steadfast, Patient)
لَا -না (No, Do not)
تَقُولُوا -তোমরা বলো (Say)
لِمَن -তাদেরকে (Those who)
يُقْتَلُ -(যারা) মারা যায়/নিহত হয় (are killed/slain)
فِي -তে, এ, মধ্যে (in)
سَبِيلِ -পথ, রাস্তা (Way)
أَمْوَاتٌ -মৃত (Dead)
بَلْ -বরং (Nay, Rather, but)
أَحْيَاءٌ -(তারা) জীবিত (Alive, living)
لَـٰكِن -কিন্তু (But)
تَشْعُرُ‌ونَ -তোমরা উপলব্ধি কর, বুঝতে পার (You perceive)
لَ -অবশ্যই (Surely)
نَبْلُوَنَّ -অবশ্যই আমরা পরীক্ষা করব (We shall test)
كُم -তোমরা, তোমাদেরকে (You)
شَيْءٍ -কিছু, জিনিস (something)
مِّنَ -থেকে, মধ্য থেকে (from, of)
الْخَوْفِ -ভয় (fear)
الْجُوعِ -ক্ষুধা (Hunger)
نَقْصٍ -কমতি, ক্ষতি, হ্রাস, ঘাটতি (Loss)
الْأَمْوَالِ -সম্পদ (wealth)
الْأَنفُسِ -জীবন (lives-plural of life)
الثَّمَرَ‌اتِ -শস্য, ফসলাদি (crops)
بَشِّرِ‌ -সুসংবাদ দাও (Give glad tidings)
إِذَا -যখন (when)
أَصَابَتْ -আপতিত হয়, নেমে আসে (strikes)
هُم -তাদের (উপর), তারা (they, them, their)
مُّصِيبَةٌ -বিপদ (misfortune)
قَالُوا -তারা বলে (they say)
إِنَّا -নিশ্চয়ই আমরা (certainly we)
إِلَيْ -দিকে, প্রতি (to)
هِ -তিনি, তার, তাকে (He, Him)
رَ‌اجِعُونَ -প্রত্যাবর্তনকারী (will return)
أُولَـٰئِكَ -তারাই সেই লোক (such are they)
عَلَيْ -উপরে (upon, on)
صَلَوَاتٌ -অনুগ্রহ (blessings)
رَ‌حْمَةٌ -রহমত, করুণা (mercy)
مُهْتَدُونَ -সুপথপ্রাপ্ত (rightly guided)

রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৩

কুরআনের শাব্দিক অনুবাদ (সূরা ফুরকান, ২৫: ৬১-৬৮ আয়াত)

تَبَارَ‌كَ -বরকতময় (তিনি)
الَّذِي -যিনি
جَعَلَ -সৃষ্টি করেছেন
فِي -তে, মধ্যে, এ (যেমন আকাশ+এ=আকাশে)
السَّمَاءِ -আকাশমন্ডলী
بُرُ‌وجًا - নক্ষত্রমন্ডলী
وَ -এবং, এছাড়াও
فِي+هَا=فِيهَا - তার মধ্যে
هَا - সে, তার, তাকে (স্ত্রীলিঙ্গ)
سِرَ‌اجًا-একটি প্রদীপ (সূর্য)
قَمَرً‌ا- একটি চন্দ্র
مُّنِيرً‌ا- (যা) দীপ্তীময়, আলোকময়, জ্যোতির্ময়
هُوَ -তিনি
الَّذِي -(সেই সত্তা) যিন
جَعَلَ -করে রেখেছেন, বানিয়েছেন
اللَّيْلَ-রাত
النَّهَارَ‌- দিন
خِلْفَةً -প্রতিস্থাপকরূপে, পরস্পরের স্থলাভিষিক্ত করে
لِّ -জন্যে
مَنْ - যে, যারা
أَرَ‌ادَ - সিদ্ধান্ত নিয়েছে
أَن- যে
يَذَّكَّرَ‌ -শিক্ষা গ্রহণ করবে , উপদেশ গ্রহণ করবে
أَوْ- অথবা
شُكُورً‌ا - কৃতজ্ঞতা
عِبَادُ -বান্দা (বহুবচন)
الرَّ‌حْمَـٰنِ - রহমানের, করুণাময়ের
الَّذِينَ -যারা
يَمْشُونَ-চলাচল করে
عَلَى-উপরে
الْأَرْ‌ضِ -জমিন, পৃথিবী
هَوْنًا- নম্রভাবে
إِذَا -যখন
خَاطَبَ -কথা বলে, বক্তব্য রাখে
هُمُ -তাদের (সাথে), তারা, তাদেরকে
الْجَاهِلُونَ -অজ্ঞরা
قَالُوا -তারা বলে (রহমানের বান্দারা)
سَلَامًا -(তোমাদেরকে) সালাম
يَبِيتُونَ -রাত কাটিয়ে দেয়
لِرَ‌بِّهِمْ -তাদের রবের জন্যে
سُجَّدًا -সিজদায় অবনত হয়ে
قِيَامًا -দাঁড়িয়ে
يَقُولُونَ -তারা বলে
رَ‌بَّ -রব, প্রতিপালক
نَا - আমাদের, আমাদেরকে
اصْرِ‌فْ- সরিয়ে দাও
عَنَّ -হতে
عَذَابَ -শাস্তি
جَهَنَّمَ -জাহান্নাম, দোযখ
إِنَّ -নিশ্চয়ই
كَانَ হয়, হচ্ছে
غَرَ‌امًا -সর্বনাশা
سَاءَتْ -নিকৃষ্ট
مُسْتَقَرًّ‌ا -আশ্রয়স্থল হিসেবে
مُقَامًا -আবাসস্থল হিসেবে
أَنفَقُوا -খরচ করল
إِذَا أَنفَقُوا -যখন খরচ করে
لَمْ -না
يُسْرِ‌فُوا -অপচয় করে
يَقْتُرُ‌وا -কৃপণতা করে
بَيْنَ -মধ্যবর্তী, মাঝে
ذَٰلِكَ -এর, এটি (এ দুটি)
قَوَامًا -ভারসাম্যের উপর প্রতিষ্ঠিত

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

বিস্ময়কর কুরআন:গ্যারি মিলার; পর্ব-৬; যুলকারনাইনের প্রাচীর আবিষ্কার

তুমি/তোমরা আগে এটা জানতেনা!![এটা বইয়ের একটা অনুচ্ছেদের শিরোনাম-ব্লগার]
নিঃসন্দেহে এটা কুরআনের এমনই এক মনোভঙ্গি যেটা আর কোথাও পাওয়া যাবেনা কুরআন যেভাবে কোন তথ্য দিয়ে এর পাঠককে বলে 'তুমি আগে এটা জানতেনা' এ ব্যাপারটি খুবই হৃদয়গ্রাহী ব্স্তুতই বর্তমানে অন্যকোন ধর্মগ্রন্থই এমন দাবী করেনা বর্তমানে মানুষের কাছে থাকা অন্য সকল প্রাচীন সাহিত্যকর্ম বা ধর্মগ্রন্থ অনেকখানি তথ্য দেয় কিন্তু পাশাপাশি তথ্যের উৎসও উল্লেখ করে দেয়
উদাহরণস্বরূপ, বাইবেলে যখন প্রাচীন ইতিহাসের কথা বলা হয়, বলা হয় যে এই রাজা এখানে বাস করত, ওই রাজা এই যুদ্ধটিতে অংশ নিয়েছে বা আরেকজনের এতজন ছেলে ছিল ইত্যাদি তবুও শর্তারোপ করে বলা হয় যে আরো জানতে হলে অমুক বইটি পড়তে হবে কারণ তথ্যটা সেখান থেকেই নেওয়া এই ধারণার বিপরীতে, কুরআন পাঠককে কোন একটি তথ্য দিয়ে বলে এটা একটা নতুন তথ্য প্রদত্ত তথ্যকে বিশ্লেষণ ও নির্ভুলতা যাচাই করবার পরামর্শতো থাকেই এটাও কৌতুহলোদ্দেীপক যে ১৪০০ বছর আগে এই কৌশলটাকে কোন অমুসলিম চ্যালেন্জ করতে পারেনি প্রকুতপক্ষে মক্কাবাসীরা যারা মুসলিমদের ঘৃণা করত তারা সময় সময় শুনত যে এই ওহী নতুন তথ্য নিয়ে আসার দাবী করছে তবুও তারা কখনো বলতে পারেনি 'না এটা নতুন নয়, আমরা জানি মুহাম্মাদ সা. এটা কোথায় পেয়েছে, আমরা এটা শিক্ষালয়ে জেনেছি' তারা কখনোই এর নির্ভুলতাকে চ্যালেন্জ করতে পারেনি কারণ বাস্তবিকই এটা নতুন ছিল!

কুরআনে প্রদত্ত তথ্যেকে অনুসন্ধানের পরামর্শানুযায়ী (যদিও তথ্যটা নতুন হয়) উমর রা. খলীফা থাকাকালীন একদল মানুষকে বাছাই করে যুলকারনাইনের প্রাচীর খুঁজে বের করতে পাঠালেন কুরআন নাযিলের আগে আরবরা কখনোই এমন কোন প্রাচীরের কথা শুনেনি, কিন্তু কুরআন এটার কথা আলোচনা করায় তারা এটা আবিষ্কার করে ফেলল বাস্তবিকপক্ষে, বর্তমানে রাশিয়ার ডারবেন্ড (Durbend) নামক স্হানে এটি অবস্থিত

(ব্লগারের মন্তব্য: কয়েকজন পাঠক উক্ত প্রাচীরের রাশিয়ায় বিরাজমান হবার ব্যাপারে  সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে অনুবাদের ধারা ঠিক রাখতেই এটাও অনুবাদ করতে হয়েছে। লেখকই ভাল জানেন প্রকৃত ব্যাপার কী। তবে এটুকু অসংগতি (যদি হয়েও থাকে) বইয়ের সত্যিকার স্যেন্দর্য্য ও গুরুত্বকে প্রভাবিত করবে না।)