আলোময়.কম,ভিডিও সঙ্গীত, যোগাযোগ করুন,সঙ্গীত পাঠান fb page

সর্বশেষ মন্তব্য

রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৩

কুরআনের শাব্দিক অনুবাদ (সূরা তাওবা ২৩-২৪ আয়াত)

২৩-
يَا أَيُّهَا -হে
الَّذِينَ -যারা
آمَنُوا -ঈমান এনেছে
لَا -না
تَتَّخِذُوا -তোমরা গ্রহণ করো
  آبَاءَكُمْ -তোমাদের পিতা (দেরকে)
 وَ -এবং
 إِخْوَانَكُمْ -তোমাদের ভাই (দেরকে)
أَوْلِيَاءَ -বন্ধু, অভিভাবক, পরামর্শক
 إِنِ -যদি
 اسْتَحَبُّوا -তারা প্রাধান্য দেয়
الْكُفْرَ‌ -কুফর (কে)
  عَلَى -উপরে
 الْإِيمَانِ -বিশ্বাস, ঈমান
  وَ-আর
 مَن -যারা
يَتَوَلَّهُم -তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে
  هُم -তারা, তাদেরকে
  مِّن -থেকে, মধ্য থেকে
كُمْ -তোমরা, তোমাদের
 مِّنكُمْ -তোমাদের মধ্য থেকে
فَ- অতএব, তাহলে
أُولَـٰئِكَ-উহারা
هُمُ-তারা
أُولَـٰئِكَ هُمُ-উহারাই
الظَّالِمُونَ-অত্যাচারী, জালিম, অন্যায়কারী  
২৪.
قُلْ-বল, বলুন
إِن-যদি
كَانَ-হয়
آبَاؤُكُمْ-তোমাদের পিতা
وَأَبْنَاؤُكُمْ-আর তোমাদের সন্তান
إِخْوَانُكُمْ-তোমাদের ভাই
أَزْوَاجُكُمْ-তোমাদের স্ত্রী
عَشِيرَ‌تُكُمْ-তোমাদের আত্মীয়-স্বজন
أَمْوَالٌ -সম্পদ
اقْتَرَ‌فْتُمُو - (যা) তোমরা অর্জন করেছো
هَا- সেটা, তা, তার
تِجَارَ‌ةٌ-ব্যবসা 
تَخْشَوْنَ-তোমরা ভয় কর, তোমরা আশঙ্কা কর
كَسَادَ-মন্দা
هَا-তার
مَسَاكِنُ- আবাস, বসতি, বাসস্থান
تَرْ‌ضَوْنَهَا- (যা) তোমরা পছন্দ কর  
أَحَبَّ- বেশি প্রিয় (হয়)
إِلَيْ -নিকট, প্রতি, দিকে, কাছে
كُم -তোমাদের
إِلَيْكُم-তোমাদের কাছে
مِّنَ-থেকে, চেয়ে
اللَّـهِ-আল্লাহ
رَ‌سُولِ- রাসুল, বার্তবাহক     
هِ-তার (আল্লাহর)
وَجِهَادٍ- জিহাদ
فِي- তে, এ (যেমন ঘর+এ=ঘরে)
سَبِيلِ-পথ, রাস্তা
فَ-অতএব
تَرَ‌بَّصُوا-তোমরা অপেক্ষা কর
حَتَّىٰ -যতক্ষণ না, যে পর্যন্ত না (,যাতে-এখানে এ অর্থ নয়)   
يَأْتِيَ -আসবেন
بِ-নিয়ে, সাথে করে, দ্বারা (প্রতি)
أَمْرِ‌-আদেশ
هِ-তার
لَا-না
يَهْدِي -পথ দেখান/দেখাবেন
الْقَوْمَ -জাতি (কে)
الْفَاسِقِينَ -(যারা) ফাসিক, পাপাচারী     
   
 

দারসুল কুরআন; সুরা তাওবা (২৩-২৪ আয়াত)

১. নির্বাচিতাংশঃ
 يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ‌ عَلَى الْإِيمَانِ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٢٣﴾ قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَ‌تُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَ‌فْتُمُوهَا وَتِجَارَ‌ةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْ‌ضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّـهِ وَرَ‌سُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَ‌بَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّـهُ بِأَمْرِ‌هِ ۗ وَاللَّـهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
২. সরল অনুবাদঃ
২৩: “হে ঈমান আনয়নকারীগণ! তোমরা তোমাদের পিতা ও ভাইদেরকে বন্ধু (অভিভাবক, পরামর্শদাতা) হিসেবে গ্রহণ করো না যদি তারা ঈমানের উপর কুফরকে প্রাধান্য দেয়(*ক)। তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে তারাই জালিম।
২৪. বলুন (হে নবী!), যদি তোমাদের  পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের উপার্জিত সম্পদ, তোমাদের যে ব্যাবসায়ের মন্দার ভয় তোমরা কর ( প্রকাশ্যে জিহাদে যোগদান করলে) এবং তোমাদের প্রিয় বাসস্থান যদি আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়ে প্রিয় হয়, তাহলে আল্লাহর ফায়সালা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। আল্লাহ ফাসিকদের সঠিক পথে চালিত করেন না।”
৩. নামকরণঃ
আলোচ্য সূরাটি  ‍দু‘টি  নামে পরিচিত- আত্ তাওবাহ (দোষ স্বীকার করে ও ক্ষমা চেয়ে পুনরায় আল্লাহর দিকে ও তাকওয়ার পথে ফিরে আসা) ও আল বারা’আত (সম্পর্কচ্ছেদ- এক্ষেত্রে মুসলিমদের সাথে মক্কার তৎকালীন মুশরিকদের সম্পর্কচ্ছেদের কথা আলোচিত হয়েছে)। সূরার প্রথম আয়াতেই بَرَ‌اءَةٌ  শব্দটির উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সূরার এক জায়গায় কতিপয় মুমিনের গুনাহ মাফের প্রসঙ্গ উল্লেখিত হয়েছে। তবুও অন্যান্য সূরার মতই শুধু তাওবা বা বারা’আত সূরাটির আলোচ্য বিষয় নয়। কুরআনের অন্যান্য অনেক সূরার মতই সূরাটিকে অন্যান্য সূরা থেকে আলাদা হিসেবে চিহ্তি করার জন্যেই এ নামকরণ করা হয়েছে।
৪. প্রেক্ষাপটঃ
এ সূরাটি তিনটি পর্যায়ে নাজিল হওয়া তিনটি ভাষণের সমষ্টি।
১ম ভাষণঃ সূরার শুরু থেকে ৫ম রুকুর শেষ নাগাদ অর্থ্যাৎ ৩৭ আয়াত পর্যন্ত। এ অংশ নাজিল হয়েছিল ৯ম হিজরির যিলকদ মাস বা তার কাছাকাছি সময়ে। রাসুল সা. সে বছর হযরত আবু বকর রা. কে আমীরুল হাজ্জ নিযুক্ত করে মক্কায় পাঠিয়েছিলেন। পরে এ ভাষণ নাজিল হলে হযরত আলী রা. কে পিছনে পাঠানো হয় যাতে সমগ্র আরবের প্রতিনিধিত্বশীল সমাবেশে তা প্রচার করা যায়।
২য় ভাষণঃ ৬ষ্ঠ রুকু থেকে ৯ম রুকুর শেষ পর্যন্ত তথা ৩৮ আয়াত থেকে ৬৮ আয়াত পর্যন্ত। এটি ৯ম হিজরীর রজব মাসে বা তার কিছু আগে তাবুক যুদ্ধের পূর্বে নাজিল হয়। 
৩য় ভাষণঃ এটি ১০ রুকু থেকে শেষ রুকু তথা ১৬ রুকুর শেষ পর্যন্ত তথা ৬৯ আয়াত থেকে ১২৯ আয়াত। তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর এ অংশ নাজিল হয়।
তাবুক যুদ্ধের ১ বছর পূর্বে একই প্রতিপক্ষ রোমকদের সাথে সংঘটিত হয়েছিল মূতার যুদ্ধ। সে যুদ্ধে ৩ হাজার সদস্যের মুসলিম বাহিনী এক লাখের রোমক বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে দেয়। ফলশ্রুতিতে এ যুদ্ধে শত প্রতিকূলতা সত্বেও মুসলিমরা ৩০ হাজার সদস্যের বাহিনী প্রস্তুত করেন। এতে ভয় পেয়ে রোমকরা ২ লাখ সৈন্য নিয়েও মোকাবেলার সাহস না করে ময়দানে অনুপস্থিত থাকে। ফলে মুসলিমরা বিরাট নৈতিক বিজয় লাভ করে এবং আরবের বাইরে ইসলামের যে হাওয়া মূতার যুদ্ধের মাধ্যমে বয়ে যাওয়া শুরু হয়েছিল এ বিজয়ে তা আরো শক্তি সঞ্চয় করল।
এ যুদ্ধেই তিনজন নিষ্ঠাবান সাহাবী ও জিহাদে অনুপস্থিত রয়ে যান। তারা হলেন কা’ব বিন মালিক, হেলাল ইবনে উমাইয়্যা ও মুরারা ইবনে রুবাঈ। পরে অবশ্য অকৃত্রিম তাওবার মাধ্যমে তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায় করেন।
৫. বিষয়বস্তুঃ
এ সূরাটি মূলত জিহাদ-প্রধান সূরা। প্রথম ভাষণে মক্কার মুশরিকদের তথাকথিত ধর্মীয় আচার পালন ও ইসলামের মূল শিক্ষাকে পরিহারের নিন্দা করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে হাজীদের পানি করানো ও আল্লাহর পথে জিহাদ কখনোই সমান নয় (১৯ নং আয়াত)। এছাড়া কাবা ঘরের দায়দায়িত্ব শিরকবাদীদের হাতে থাকতে পারে না বরং তাওহীদবাদীদের হাতে থাকেব-এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
২য় ভাষণে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্যে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে এবং ৩য় ভাষণে তাবুক যুদ্ধে অনুপস্থিত থাকা মুনাফিকদের তিরস্কার করা হয়েছে।
আলোচ্য আয়াতদ্বয়ে বলা হয়েছে ঈমানের বিপরীতে ও কুফরীর সপক্ষে বললে পিতা ও ভাইকেও পরামর্শদাতা বা বন্ধু বানানো যাবে না। এছাড়াও যেসব বস্তু মানুষকে আল্লাহর পথে জিহাদ করা থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে সেগুলোর ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যাঃ
 ক. কুরআনের অন্যত্র আমরা দেখি কাফির, ইয়াহুদী বা খ্রীস্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে ।
যেমন (মায়েদা, ৫:৫৫) -
“হে মুমিনগণ, আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না।”
(মায়েদা, ৫::৫১-)

“ হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।...”
 (সূরা মুমতাহিনা, ৬০:::১)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ
অর্থ- “মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধরূপে গ্রহণ করো না”
 অর্থ্যাৎ পিতা ও ভাই মুসলিম হয়েও যদি ঈমানের বিপরীত পরামর্শ প্রদান করে তাহলে বুঝতে

দারসুল কুরআন উপস্থাপনের পদ্ধতি

মাক্কী যুগের প্রথম দিক থেকেই শুরু গিয়েছিল  রাসুল সা. এর বিপ্লবী দাওয়াতের বিরোধীতা করার কাজ। তাই বলে তিনি কুরআনের প্রশিক্ষণ বন্ধ করে রাখেননি। বরং সাহাবী হযরত আরকাম ইবনুল আবিল আরকামের বাড়িতে নিয়মিত চলত কুরআন চর্চা। বর্তমানেও আমাদের শত প্রতিকূলতার মাঝেও কুরআন চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। কুরআনের শিক্ষাকে সমাজে ছড়িয়ে দিতে হলে প্রয়োজন এর ব্যাপক চর্চা, অনুশীলন ও গবেষণা। তারই একটি ধারা হল দারসুল কুরআন উপস্থাপন।
আশার কথা হলো, বাংলাদেশে ইসলামপন্থী ব্যাংক, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে ইসলামী আন্দোলনের ভাইয়েরা দারসুল কুরআনের মত সুন্দর কুরআন চর্চার ধারাটি বজায় রেখেছেন। এছাড়াও কুরআন ক্লাস ও কুরআন তালিমকে কেন্দ্র করে বা বিভিন্ন সাংগঠনিক, পারিবারিক বৈঠকেও দারসের আয়োজন করা যেতে পারে।
দারস উপস্থাপন হলে যা যা করা প্রয়োজন -
১. বিশুদ্ধ উচ্চারণে নির্বাচিত আয়াতগুলো তিলাওয়াত।
২. তিলাওয়াতকৃত অংশের হুবহু সরল অনুবাদ
৩. সংশ্লিষ্ট সূরার নামকরণের তাৎপর্য
৪. তিলাওয়াতকৃত অংশের শানে নুজুল বা অবতীর্ণ হবার প্রেক্ষাপট । সময় থাকলে সম্পূর্ণ সূরার পটভূমি আলোচনা।
৫. আলোচ্য অংশের বিষয়বস্তু। সময় বেশি থাকলে সমগ্র সূরার বিষয়বস্তু।
৬. (পারলে) প্রতিটি শব্দের অর্থ ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলা।
৭. আয়াত ও বিশেষ বিশেষ শব্দ ও শব্দসমষ্টির ব্যাখ্যা।
৮. পয়েন্টভিত্তিক শিক্ষা।
৯. আয়াতের পটভূমির আলোকে সমসাময়িক পরিস্থিতির তুলনা তুলে ধরে শিক্ষার বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও করণীয় তুলে ধরা।

মাক্কী সূরার সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য

মাক্কী সূরার সংজ্ঞাঃ যেখানেই নাজিল হোক না কেন, যে সকল সূরা রাসুল সা. এর মদীনায় হিজরতে আগে নাজিল হয়েছে সেগুলোকে মাক্কী সূরা বলে। যেমন সূরা নাসর মক্কায় অবতীর্ণ হয়েও হিজরতের পরে অবতীর্ণ হয়েছে বলে এট মাদানী সূরা, মাক্কী নয়।
মাক্কী ‍সূরার বৈশিষ্ট্যঃ
১. আয়াত সমূহ ছোট ছোট ও ছন্দময়।
২. তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত সম্পর্কে আলোচনা ও যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
৩. জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা এসেছে।
৪. মানুষের ঘুমন্ত বিবেক ও নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করে চিন্তাশক্তিকে সত্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
৫. ياَ يهاَ النَّس  বা হে মানুষ! বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
৬. দাওয়াত ও প্রচারকার্যের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
৭. গাম্ভীর্যপূর্ণ ও কঠিন শব্দ ব্যাবহৃত হয়েছে।
৮. নবী রাসুলদের কাহিনী উল্লেখ করা হয়েছে। (ব্যতিক্রম সূরা বাকার)
৯. সিজদার আয়াত রয়েছে।
১০. বিভিন্ন জিনিসের কসম করা হয়েছে।
১১. كَلَّ  বা কখনো নয় বা বরং শব্দটি ব্যাবহার করা হয়েছে।
১২. সূরার শুরুতে হরফে মুকাত্তা’য়াত বা বিচ্ছিন্ন অক্ষর রয়েছে। যেমন ق । (ব্যতিক্রম বাকারা ও আলে ইমরান)
১৩. আয়াতসমূহ সহজে মুখস্ত হবার যোগ্য এবং সাহিত্যমান অতি উন্নত।

তাজবীদ শিক্ষা: পর্ব-১ মাখরাজ বা আরবী অক্ষরের উচ্চারণস্হল


 কুরআন সঠিক উচ্চারণে পড়তে না পারলে কুরআন অভিশাপ দেয়। তাই চলুন ধারাবাহিকভাবে তাজবীদ শিখি। এটা পড়ার পাশাপাশি অবশ্যই একজন ভালো ক্বারীর সাথে বসে উচ্চারণ ঠিক করে নিলে ভালো হয়।
এ পর্বেমাখরাজ বা আরবী অক্ষরগুলো উচ্চারণের স্হান ও কৌশল আলোচিত হলো।

১নং মাখরাজ: হলকের শুরু হতে -হামযা ,হা  ء  -  ٥
২. হলকের মধ্যখান হতে- আইন , হা   ع- ح
৩. হলকের শেষভাগ হতে-গঈন-খ’ غ-خ
৪. জিহবার গোড়া তার বরাবর উপরের তালুর সঙ্গে লাগিয়ে-ক্বাফ-ق
৫. জিহবার গোড়া হতে একটু আগে বাড়িয়ে তার বরাবর ওপরের তালুর সঙ্গে লাগিয়ে-কাফ  -ك
৬. জিহবার মধ্যখান তার বরাবর উপরের তালুর সঙ্গে লাগিয়ে-ইয়া, শিন, জিমঃ   ي-ش-ج
৭. জিহবার গোড়ার কিনারা সামনের উপরের একপাশের দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লাগিয়ে-দোয়াদঃ  ض
৮. জিহবার আগার কিনারা সামনের উপরের একপাশের দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লাগিয়ে -লামঃ  ل
৯. জিহবার আগা তার বরাবর উপরের তালুর সঙ্গে লাগিয়ে -নূনঃ ن
১০. জিহবার আগার পিঠ তার বরাবর উপরের তালুর সঙ্গে লাগিয়ে -রাঃ ر
১১. জিহবার আগা সামনের উপরের দুই দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লাগিয়ে- তা, দাল, তোয়াঃ  ت-د-ط
১২. জিহবার আগা সামনের নিচের দুই দাঁতের আগার সঙ্গে লাগিয়ে- যা, ছিন, সোয়াদঃ  ز-س-ص
১৩. জিহবার আগা সামনের উপরের দু্ই দাঁতের আগার সঙ্গে লাগিয়ে- ছা, যাল, যোয়াঃ  ث-ذ-ظ
১৪. নিচের ঠোঁটের পেট সামনের উপরের দুই দাঁতের আগার সঙ্গে লাগিয়ে-ফাঃ ف
১৫. দুই ঠোঁট হতে-মীম, বা, ওয়াও। (ওয়াও উচ্চারণের সময় দুই ঠোঁট গোল হবে):  م-ب-و
১৬. মুখের খালি জায়গা হতে মদ্দের হরফ উচ্চারিত হয়। মাদ্দের হরফ তিনটি। ওয়াও, আলিফ ও ইয়া। যবরের বাম পাশে খালি আলিফ, পেশের বাম পাশে জযমওয়ালা ওয়াও এবং জেরের বাম পাশে জযমওয়ালা ইয়া। মাদ্দের হরফ এক আলিফ টেনে পড়তে হয়। যেমন- با-بُؤْ-بِئ
(অবশ্য তিন আলিফ ও চার আলিফ মাদ্দ ও আছে। তবে সেগুলোর নিয়ম ভিন্ন যা আমরা মাদ্দের আলোচনায় পরে দেখব। ইনশা’আল্লা্হ)
১৭. নাকের বাঁশী হতে গুন্নাহ উচ্চারিত হয়। -আন্না, ইন্না, আম্মা ইত্যাদি।  اِنَّ-اَنَّ-اَمَّ

কুরআন অধ্যয়নে সমস্যা ও সমাধানের উপায়

কুরআন অধ্যয়নে সমস্যাঃ
১. অন্যান্য সাধারণ গ্রন্থের ন্যায় মনে করা
২. কুরআন নাজিলে ঘটনা বা প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট না জানা।
৩. একই বিষয়ের বারবার উল্লেখ থাকা।
৪. নাসেখ-মানসুখ না জানা
৫. কোন বিষয়-সূচী না থাকা
৬. ওহীর ভাষা না বুঝা
৭. রাসুলের বিপ্লবী জীবন না জানা।
৮. ধারাবাহিকতার অভাব।
৯. একটি বিষয় শেষ না হতে অন্য বিষয়ের অবতারণা
১০. আরবী ভাষা না জানা
কুরআন অধ্যয়নে সমস্যা  সমাধানের উপায়ঃ
১. নিরপেক্ষ মন নিয়ে অধ্যয়ন করা।
২. কুরআন নাজিলের প্রেক্ষাপট (শানে নুজুল) জানা।
৩. রাসুল সা. এর আন্দোলনের বিভিন্ন অবস্হা ও পর্যায় তথা ক্রমবিকাশ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা।
৪. ঘরে বসে কুরআন বুঝার চেষ্টার চেয়ে কুরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক হওয়া।
৫. সর্বোপরি উপরের সমস্যাগুলো সমাধান করে কুরআন অধ্যয়ন করা।

সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৩

কুরআনের গাণিতিক অলৌকিকতা পর্ব-১

কুরআনের চির-আধুনিক আইন কানুনের পাশাপাশি ভাষার সাহিত্যিক মান ও আধুনিক বিজ্ঞান আলোচনার সাথে সাথে এতে রয়েছে গণিতের বিস্ময়কর সামন্জস্য। 
যেমন কুরআনে ইনসান বা মানুষ কথাটি এসেছে ৬৫ বার। 
সুরা হাজ্জ (২২:৫) এবং সুরা মুমিনূন (২৩:১২-১৪) থেকে জানা যায় মানুষ সৃষ্টির ক্রমিক ধাপগুলো হলো 
১. মাটি (তুরাব تُرَابٍ) 
২. নুতফা ( نُّطْفَةٍ=জীবনকণা) 
৩. আলাকা ( عَلَقَةٍ=জোঁকের মত বস্তু, যা লেগে থাকে, যা ঝুলে থাকে) 
৪. মুদগাহ ( مُّضْغَةٍ =মাংসপিন্ড) 
৫. এযাম ( عِظَـٰمًا=হাড়) এবং 
৬. লাহম (لَحْمًا =গোশত) 
কুরআনের বভিন্ন স্থানে এ শব্দগুলো উলেখ করা হয়েছে যথাক্রমে ১৭, ১২, ৬, ৩, ১৫ এবং ১২ বার। 
এগুলো যোগ করে আমরা পাই ৬৫ যা ইনসান বা মানুষ শব্দের উল্লেখের সমান।

শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৩

কুরআন নাযিলের পদ্ধতি

রাসুল সা. এর উপর কুরআন যে যে পদ্ধতিতে নাযিল হতো-
১. স্বপ্নযোগে- প্রতিটি স্বপ্ন নির্ভুল  সত্য ও বাস্তবে পরিণত হত (বুখারী; ওহী অধ্যায়)
২. হৃদয়পটে উদ্রেক হওয়া-জিবরাঈল আ. ফুঁকে দিতেন
৩. ঘন্টাধ্বনির ন্যায়
৪. সাহাবী দিহইয়াতুল কালবী রা. এর আকৃতিতে জিবরাইল আ. এর আগমন
৫. জিবরাঈল আ. এর নিজস্ব আকৃতিতে
৬. পর্দার আড়াল থেকে-মধ্যস্হতাকারী ছাড়াই সরাসরি আল্লাহর সাথে
৭. ইস্রাফিল আ. এর মাধ্যমে