আলোময়.কম,ভিডিও সঙ্গীত, যোগাযোগ করুন,সঙ্গীত পাঠান fb page

সর্বশেষ মন্তব্য

রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৩

কুরআনের শাব্দিক অনুবাদ (সূরা ফুরকান, ২৫: ৬১-৬৮ আয়াত)

تَبَارَ‌كَ -বরকতময় (তিনি)
الَّذِي -যিনি
جَعَلَ -সৃষ্টি করেছেন
فِي -তে, মধ্যে, এ (যেমন আকাশ+এ=আকাশে)
السَّمَاءِ -আকাশমন্ডলী
بُرُ‌وجًا - নক্ষত্রমন্ডলী
وَ -এবং, এছাড়াও
فِي+هَا=فِيهَا - তার মধ্যে
هَا - সে, তার, তাকে (স্ত্রীলিঙ্গ)
سِرَ‌اجًا-একটি প্রদীপ (সূর্য)
قَمَرً‌ا- একটি চন্দ্র
مُّنِيرً‌ا- (যা) দীপ্তীময়, আলোকময়, জ্যোতির্ময়
هُوَ -তিনি
الَّذِي -(সেই সত্তা) যিন
جَعَلَ -করে রেখেছেন, বানিয়েছেন
اللَّيْلَ-রাত
النَّهَارَ‌- দিন
خِلْفَةً -প্রতিস্থাপকরূপে, পরস্পরের স্থলাভিষিক্ত করে
لِّ -জন্যে
مَنْ - যে, যারা
أَرَ‌ادَ - সিদ্ধান্ত নিয়েছে
أَن- যে
يَذَّكَّرَ‌ -শিক্ষা গ্রহণ করবে , উপদেশ গ্রহণ করবে
أَوْ- অথবা
شُكُورً‌ا - কৃতজ্ঞতা
عِبَادُ -বান্দা (বহুবচন)
الرَّ‌حْمَـٰنِ - রহমানের, করুণাময়ের
الَّذِينَ -যারা
يَمْشُونَ-চলাচল করে
عَلَى-উপরে
الْأَرْ‌ضِ -জমিন, পৃথিবী
هَوْنًا- নম্রভাবে
إِذَا -যখন
خَاطَبَ -কথা বলে, বক্তব্য রাখে
هُمُ -তাদের (সাথে), তারা, তাদেরকে
الْجَاهِلُونَ -অজ্ঞরা
قَالُوا -তারা বলে (রহমানের বান্দারা)
سَلَامًا -(তোমাদেরকে) সালাম
يَبِيتُونَ -রাত কাটিয়ে দেয়
لِرَ‌بِّهِمْ -তাদের রবের জন্যে
سُجَّدًا -সিজদায় অবনত হয়ে
قِيَامًا -দাঁড়িয়ে
يَقُولُونَ -তারা বলে
رَ‌بَّ -রব, প্রতিপালক
نَا - আমাদের, আমাদেরকে
اصْرِ‌فْ- সরিয়ে দাও
عَنَّ -হতে
عَذَابَ -শাস্তি
جَهَنَّمَ -জাহান্নাম, দোযখ
إِنَّ -নিশ্চয়ই
كَانَ হয়, হচ্ছে
غَرَ‌امًا -সর্বনাশা
سَاءَتْ -নিকৃষ্ট
مُسْتَقَرًّ‌ا -আশ্রয়স্থল হিসেবে
مُقَامًا -আবাসস্থল হিসেবে
أَنفَقُوا -খরচ করল
إِذَا أَنفَقُوا -যখন খরচ করে
لَمْ -না
يُسْرِ‌فُوا -অপচয় করে
يَقْتُرُ‌وا -কৃপণতা করে
بَيْنَ -মধ্যবর্তী, মাঝে
ذَٰلِكَ -এর, এটি (এ দুটি)
قَوَامًا -ভারসাম্যের উপর প্রতিষ্ঠিত

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

বিস্ময়কর কুরআন:গ্যারি মিলার; পর্ব-৬; যুলকারনাইনের প্রাচীর আবিষ্কার

তুমি/তোমরা আগে এটা জানতেনা!![এটা বইয়ের একটা অনুচ্ছেদের শিরোনাম-ব্লগার]
নিঃসন্দেহে এটা কুরআনের এমনই এক মনোভঙ্গি যেটা আর কোথাও পাওয়া যাবেনা কুরআন যেভাবে কোন তথ্য দিয়ে এর পাঠককে বলে 'তুমি আগে এটা জানতেনা' এ ব্যাপারটি খুবই হৃদয়গ্রাহী ব্স্তুতই বর্তমানে অন্যকোন ধর্মগ্রন্থই এমন দাবী করেনা বর্তমানে মানুষের কাছে থাকা অন্য সকল প্রাচীন সাহিত্যকর্ম বা ধর্মগ্রন্থ অনেকখানি তথ্য দেয় কিন্তু পাশাপাশি তথ্যের উৎসও উল্লেখ করে দেয়
উদাহরণস্বরূপ, বাইবেলে যখন প্রাচীন ইতিহাসের কথা বলা হয়, বলা হয় যে এই রাজা এখানে বাস করত, ওই রাজা এই যুদ্ধটিতে অংশ নিয়েছে বা আরেকজনের এতজন ছেলে ছিল ইত্যাদি তবুও শর্তারোপ করে বলা হয় যে আরো জানতে হলে অমুক বইটি পড়তে হবে কারণ তথ্যটা সেখান থেকেই নেওয়া এই ধারণার বিপরীতে, কুরআন পাঠককে কোন একটি তথ্য দিয়ে বলে এটা একটা নতুন তথ্য প্রদত্ত তথ্যকে বিশ্লেষণ ও নির্ভুলতা যাচাই করবার পরামর্শতো থাকেই এটাও কৌতুহলোদ্দেীপক যে ১৪০০ বছর আগে এই কৌশলটাকে কোন অমুসলিম চ্যালেন্জ করতে পারেনি প্রকুতপক্ষে মক্কাবাসীরা যারা মুসলিমদের ঘৃণা করত তারা সময় সময় শুনত যে এই ওহী নতুন তথ্য নিয়ে আসার দাবী করছে তবুও তারা কখনো বলতে পারেনি 'না এটা নতুন নয়, আমরা জানি মুহাম্মাদ সা. এটা কোথায় পেয়েছে, আমরা এটা শিক্ষালয়ে জেনেছি' তারা কখনোই এর নির্ভুলতাকে চ্যালেন্জ করতে পারেনি কারণ বাস্তবিকই এটা নতুন ছিল!

কুরআনে প্রদত্ত তথ্যেকে অনুসন্ধানের পরামর্শানুযায়ী (যদিও তথ্যটা নতুন হয়) উমর রা. খলীফা থাকাকালীন একদল মানুষকে বাছাই করে যুলকারনাইনের প্রাচীর খুঁজে বের করতে পাঠালেন কুরআন নাযিলের আগে আরবরা কখনোই এমন কোন প্রাচীরের কথা শুনেনি, কিন্তু কুরআন এটার কথা আলোচনা করায় তারা এটা আবিষ্কার করে ফেলল বাস্তবিকপক্ষে, বর্তমানে রাশিয়ার ডারবেন্ড (Durbend) নামক স্হানে এটি অবস্থিত

(ব্লগারের মন্তব্য: কয়েকজন পাঠক উক্ত প্রাচীরের রাশিয়ায় বিরাজমান হবার ব্যাপারে  সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে অনুবাদের ধারা ঠিক রাখতেই এটাও অনুবাদ করতে হয়েছে। লেখকই ভাল জানেন প্রকৃত ব্যাপার কী। তবে এটুকু অসংগতি (যদি হয়েও থাকে) বইয়ের সত্যিকার স্যেন্দর্য্য ও গুরুত্বকে প্রভাবিত করবে না।)

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৩

বিস্ময়কর কুরআন:গ্যারি মিলা-পর্ব-৫;ড. মুর স্বীকার করলেন কুরআন আল্লাহর বাণী

 পর্ব-৪
 
সন্দেহবাদীদের প্রতিক্রিয়া
ড. মুর clinical embryology এর উপর একটা বইও লিখলেন এবং তিনি কানাডায় (কুরআনে প্রাপ্ত) এ তথ্য প্রকাশ করলে সেখানে একটা হৈচৈ শুরু হলো। কানাডজুড়ে এটা বিভিন্ন পত্রিকার প্রথম পাতার খবর হলো। এর মধ্যে কিছু শিরোনাম ছিল বেশ হাস্যকর। একটা হেডলাইন ছিল এমন-"প্রাচীন প্রার্থনার বইয়ে বিস্ময়কর জিনিস পাওয়া গেলো!!" এ উদাহরণ থেকে স্পষ্ট বিষয়বস্তুটাই তাদের কাছে পরিষ্কার ছিলনা। এমনকি একজন রিপোর্টার ড. মুরকে প্রশ্ন করলেন, " আপনার কি এমন মনে হয়না যে আরবরা এ জিনিসগুলো জেনে থাকতে পারে, ভ্রুণের বর্ণনা, বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, এটার কীভাবে পরিবর্তন ও বৃদ্ধি হয়।তারা বিজ্ঞানী হয়তো ছিলনা, কিন্তু তারা হয়তো মানবদেহ কেটেকুটে ব্যাবচ্ছেদ করে পরীক্ষা চালিয়েছে।" 

অধ্যাপক মুর তখনি তাকে বলে দিলেন যে সে একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ভুলে যাচ্ছে। যে স্লাইডগুলো দেখানো হয়েছিল এবং যেগুলো ফিল্মে প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল তার সবগুলোই অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে পাওয়া। কেউ যদি ১৪০০ বছর আগে ভ্রুণবিদ্যা আবিষ্কারের চেষ্টা করতও তাতে লাভ হতোনা সে এটা দেখতোই পারতোনা। 

 
কুরআনে ভ্রুণের বর্ণনা ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছে সেগুলো এখনো খালি চোখে দেখা যায়না, প্রয়োজন হয় মাইক্রোসকোপ বা অণুবীক্ষণযন্ত্রের। যেহেতু অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়েছে মাত্র ২০০ বছরের কিছু বেশি দিন ধরে ড. মুর বলেন, "সম্ভবত ১৪০০ বছর আগে কারো একটা মাইক্রোসকোপ ছিল এবং সে এটা দিয়ে নির্ভুল গবেষণা চালায় এবং মুহাম্মাদ সা. কে এটা শিখিয়ে দিয়ে তথ্যটা কুরআনে সংযুক্ত করানোর জন্য রাজী করে। পরে সে যন্ত্রটা নষ্ট করে ফেলে চিরকাল এটা গোপন রাখে। আপনার কি এটা বিশ্বাস হয়? হবার কথা নয় যদিনা আপনি কোন প্রমাণ দেখান কারণ এটা একটি অতি অদ্ভূত যুক্তি।"
তখন ড. মুরকে জিজ্ঞেস তরা হলো তাহলে কীভাবে আপনি কুরআনের এই তথ্যকে ব্যাখ্যা করবেন। তিনি উত্তর দিলেন , "এটা তো শুধু ঐশী বাণীই হতে পারে।"

ভূতত্ব

ড. মুরের এজন কলিগ মারশাল জনসন টরেন্টো ইউনিভার্সিটিতে ভূতত্ব নিয়ে বিস্তর গবেষণা-রত। ভ্রুণবিদ্যায় কুরআনের বক্তব্য নির্ভুল শুনে তিনি খুবই আগ্রহান্বিত হলেন। তাই তিনি মুসলিমদের বললেন কুরআনে ভূতত্ব বিষয়ক তথ্যাদি সংগ্রহ করার জন্য। আবারো অনুসন্ধানের পর বিস্মিত হতে হলো। যেহেতু কুরআনে অসংখ্য বিষয়ে আলোচনা এসেছে তাই প্রতিটা নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে অনেক সময় লাগবে। এই আলোচনার উদ্দেশ্য পূরণের জন্যে এটা বলাই যথেষ্ট যে কুরআন বিভিন্ন বিষয়ের সুস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত তথ্য দেয় এবং পাশাপাশি পাঠককে উক্ত বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা গবেষণা করিয়ে যাচাই করিয়ে নেবার পরামর্শ দেয়। সুস্পষ্টভাবেই কুরআনকে নির্ভুল হিসেবে পাওয়া গেছে যা দেখা গেল উপরোক্ত উদাহরণদ্বয়ে

পর্ব-৬

বিস্ময়কর কুরআন:গ্যারি মিলার-পর্ব-৪

 পর্ব-১, পর্ব-২ , পর্ব-৩
ভ্রুণবিদ্যা
কয়েক বছর আগে সৌদি আরবের রিয়াদের কয়েকজন লোক কুরআনের ভ্রুণবিদ্যা (মাতৃগর্ভে মানবশিশুর বৃদ্ধি) -বিষয়ক সবগুলো আয়াত একত্র করলেনতারা বললেন, “কুরআন যা বলছে সেটা হচ্ছে এটাএটা কি সঠিক “। মূলত, তাঁরা কুরআনের উপদেশ গ্রহণ করেছিলেন-”যে জানে তাঁকে জিজ্ঞেস করো”। তাঁরা University of Toronto থেকে একজন ভ্রুণবিদ্যার অধ্যাপকের কাছে গেলেনআর তিনি ছিলেন অমুসলিমতাঁর নাম কিথ মুরভ্রুণবিদ্যায় তাঁর অনেকগুলো পাঠ্যবই রয়েছে এবং তিনি বিষয়ে আর্ন্তজাতিক মানের বিশেষজ্ঞ
 তাঁরা তাঁকে রিয়াদে আমণ্ত্রণ জানালেন এবং বললেন, “আপনার সাবজেক্ট সম্পর্কে কুরআন এটা এটা বলে, এটা কি সঠিক?, আপনি কী বলেন?”
তিনি রিয়াদে থাকাকালিন তাঁরা তাঁকে অনুবাদের ক্ষেত্রে সবরকমের সাহায্য করলেন এবং তাঁর চাহিদামত সহায়তা দিলেনতিনি যা পেলেন তাতে এতই অভিভূত হলেন যে তিনি তাঁর টেক্সটবই সংস্কার করে ফেললেনপরে তিনি তার অন্যতম বই ’Before We Are Born...’ এর ২য় সংস্করণের সময় ভ্রুণবিদ্যার ইতিহাস অংশে এমন কিছু তথ্য অর্ন্তভূক্ত করলেন যা ১ম সংস্করণে ছিলনা কারণ তিনি কুরআনে যা পেলেন তা ছিল সময়ের চেয়ে এগিয়ে এবং যারা কুরআনে বিশ্বাসী তারা এমন কিছু জানে যা অন্যরা জানেনা। 
টেলিভিশনের একটা অনুষ্ঠানের জন্যে আমার  . কিথ মুরের সাক্ষাৎকার নেবার সুযোগ হয়েছিলআমরা ব্যাপারে ব্যাপক আলোচনা করলাম- এটা স্লাইডে (জীববিজ্ঞানে উদ্ভিদ বা প্রাণিদেহের কোষ ব্যাবচ্ছেদ করে ছোট যে স্বচ্ছ কাঁচে রেখে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা হয়-ব্লগার কাম অনুবাদক) পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল ইত্যাদি ইত্যাদিতিনি বলেন  “কুরআন শিশুর বৃদ্ধি সম্পর্কে যা বলছে এগুলোর কিছু কিছু ৩০ বছের আগেও কেউ জানতোনাতিনি একটা বিষয় বিশেষভাবে বললেন- মানবভ্রূণকে একটা পর্যায়েজোঁকের মত পিণ্ড (leech-like clot-আলাকাহ) বলে উল্লেখ করাটা তাঁর কাছে নতুন ছিলকিন্তু তিনি যখন যাচাই করলেন তিনি দেখলেন এটাই সত্যি, তাই তিনি এটা তাঁর বইয়ে যোগ করে দিলেনতিনি বলেন, “আমি আগে কখনো এটার কথা চিন্তাই করিনি।” তিনি প্রাণিবিদ্যা বিভাগে গিয়ে জোঁকের ছবি দেখতে চাইলেনতিনি যখন দেখলেন যে সেটা দেখতে ঠিক মানভ্রুণের মতই তখন তিনি তাঁর এক বইয়ে দুটো ছবিই দিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন
যদিও উপরের উদাহরণে কুরআনে প্রদত্ত তথ্য-বিশ্লেষণ একজন অমুসলিমকে নিয়ে করা হয়েছিল তবুও এটা যৌক্তিকই ছিল কারণ লোকটি ছিল উক্ত বিষয়ে অন্যতম পারদর্শীযদি কোন সাধারণ মানুষ বলত যে কুরআনে যা আছে তা সঠিক তাহলে এটাকে অগ্রাহ্যও করা যেততবে, উঁচু অবস্থান, সম্মান, মর্যাদা ইত্যাদির কারণে তাঁরা কোন বিষয়ে গবেষণা করে  যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন তা হয় সঠিক

বিস্ময়কর কুরআন:গ্যারি মিলার: পর্ব-৩

পর্ব-১, পর্ব-২ 
মিথ্যা প্রমাণের পরীক্ষা (Falsification Test) 
আগামীতে যদি কারো সাথে আপনার ইসলাম নিয়ে তর্ক হয় আর সে যদি বলে তার কাছেই রয়েছে সত্য এবং আপনি অন্ধকারে রয়েছেন তবে আপাতত সব যুক্তি ছেড়ে এ পরামর্শটি গ্রহণ করুন। তাকে প্রশ্ন করুন, “আপনার ধর্মে কি কোন ’মিথ্যা প্রমাণের পরীক্ষা’ (Falsification Test) আছে?, আপনার ধর্মে (আমার মতে যেকোন মতবাদের কথাও বলাও যায় যেমন কমিউনিজম- ব্লগার কাম অনুবাদক) কি এমন কিছু আছে যা আপনাকে ভুল প্রমাণ করবে যদি আমি সেটার অস্তিত্ব দেখাতে পারি”।
 হ্যাঁ, আমি নিশ্চিতরূপে বলতে পারি সে কিছুই দেখাতে পারবেনা-না কোন পরীক্ষা, না কোন প্রমাণ-কিছুইনা। কারণ তাদের মনে এ ভাবনাই কাজ করেনা যে তারা নিজেরা যেটা বিশ্বাস করে সেটা উপস্হাপন করার পাশাপাশি সেটাকে ভুল প্রমাণ করার সম্ভাবনাও রাখবে। কিন্তু ইসলাম এমনটি করে।
ইসলামযে মানুষকে এর নির্ভুলতা যাচাই করবার সুযোগ দেয় এর একটি চমৎকার উদাহর‌ণ হচ্ছে ৪র্থ সুরার ‘পারলে একে ভুল প্রমাণ কর’ কথাটি। সত্যি বলতে, আমি সর্বপ্রথম এ চ্যালেণ্জটি দেখে খুবই অভিভূত হই। 
এখানে বলা আছে (সুরা নিসা, ৪:৮২)- 
”তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করেনা?, যদি এটা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে আসত তাহলে তারা এতে অনেক অনঙ্গতি খুঁজে পেত” 
এটা অমুসলিমদের প্রতি এক সুস্পষ্ট চ্যালেন্জ। মূলত, এটা তাকে একটা ত্রুটি বের করবার চ্যলেন্জ দিচ্ছে। চ্যলেন্জটি গুরুত্বর এবং দুঃসাধ্যতো বটেই, পাশাপাশি এমন চ্যলেন্জের সত্যিকারের উপস্হাপন মানব প্রকৃতির সাথে খাপ খায়না এবং এটা মানবীয় ব্যক্তিত্বের সাথে অসমান্জস্যপূর্ণ। কেউ এমন কোন পরীক্ষা দেয়না যেখানে পরীক্ষার শেষে নিরীক্ষকের উদ্দেশ্যে লিখবে যে ‘এ পরীক্ষাটা স্বয়ংসম্পূর্ণ, এতে কোন ভুল নেই, পারলে একটা বের করুননা!” কোন মানুষই এমনটি করেনা। একটা ভুল না পাওয়া পর্যন্ত ঐ শিক্ষক ঘুমাবেনা। তারপরেও এ পদ্ধতিতেই কুরআন মানুষকে আহবান জানায়। 


যারা জানে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো!! 
কুরআনে বারবার উল্লিখিত আরেকটি মজার আচরণ হচ্ছে পাঠককে দেওয়া উপদেশাবলি। কুরআন এর পাঠককে বিভিন্ন তথ্যাদি দেয় এবং পরে উপদেশ দেয় ‘তুমি যদি এ সর্ম্পকে আরো জানতে চাও অথবা যা বলা হলো তা যদি সন্দেহ করো তাহলে জ্ঞানবানদের জিজ্ঞেস করে দেখো।" এটাও বিস্ময়কর আচরণ। এমনটাও হওয়া স্বাভাবিক নয় যে এমন একজন লোক যার উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, ভূগোল ইত্যাদিতে কোন প্রশিক্ষণ নেই সে একটি বইয়ে এ বিষয়গুলো আলোচনা করবে এবং পরে পাঠকদের সন্দেহ হলে বিশেষজ্ঞদের কাছে জিজ্ঞেস করে নেবার উপদেশ দিবে। এরপরেও প্রত্যেক যুগেই এমন মুসলিম ছিল যারা কুরআনের উপদেশ মেনেছে এবং বিস্ময়কর সব আবিষ্কার করেছে। কেউ যদি অনেক শতাব্দী আগের বইগুলো দেখে তাহলে সেগুলোতে কুরআনের অসংখ্য উদ্ধৃতি দেখতে পাবে। তাদের বইগুলো থেকে জানা যায় তারা কোনকিছুর জন্যে অমুক জায়গায় অনুসন্ধান চালিয়েছিল। এবং তারা নিশ্চিত করে বলেছে যে তারা অমুক অমুক জায়গায় খোঁজ করেছিল এজন্যে যে কুরআন সেদিকে নির্দেশনা দিয়েছিল। 
উদাহরণস্বরুপ, কুরআন মানুষের উৎপত্তির উল্লেখ করেছে এবং বলেছে 'এটা নিয়ে গবেষণা কর’। এটা পাঠককে কোথায় দেখতে হবে তার একটা সূত্র দিচ্ছে এবং পরে বলছে যে এটা নিয়ে আরো বিস্তারিত খোঁজাখুজি করা উচিৎ। দেখা যাচ্ছে, এই বিষয়টাকে মুসলিমরা ইদানিং বেশ উপেক্ষা করে যাচ্ছে - কিন্তু সবসময় করেনি যেমনটা দেখাব পরবর্তী উদাহরণগুলোতে। 
[পরবর্তী পর্বে: ভ্রুণবিদ্যা নিয়ে আলোচনা]